আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও অভিবাসন: প্রবাস জীবন সফল করার ৫টি গোপন কৌশল!

webmaster

국제 노동시장과 이주 문제 - **AI Integration in Modern Workplaces**: A diverse group of professionals, including men and women w...

প্রিয় পাঠকগণ, আজকাল আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার আর অভিবাসন নিয়ে আলোচনাটা যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আমার মনে হয়, এটা শুধু খবরের কাগজে বড় বড় শিরোনাম হয়ে থাকে না, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং ভবিষ্যতের ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়ে। কাজের সন্ধানে কিংবা উন্নত জীবনের আশায় মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাচ্ছে, এই প্রবণতাটা এখন বিশ্বজুড়ে আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। যখন আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবি, তখন দেখি এর পেছনে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণ নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনও একটা বড় ভূমিকা পালন করছে।আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে বা ভুল ধারণার কারণে অনেকে হয়তো হতাশ হন, আবার কেউ কেউ সঠিক পরিকল্পনা আর দক্ষতার জোরে তাদের জীবনে অনেক বড় সাফল্য বয়ে আনেন। বিশেষ করে এই প্রযুক্তির যুগে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের ফলে শ্রমবাজারের চাহিদা এবং সুযোগের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। কোন দক্ষতাগুলো এখন সবচেয়ে বেশি কাজে লাগছে বা ভবিষ্যতে কোন কাজের কদর বাড়তে পারে – এই সব প্রশ্নের উত্তর জানাটা আমার মতে, সবার জন্যই অত্যন্ত জরুরি।চলুন, আজকের এই ব্লগে আমরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের এই খুঁটিনাটি দিকগুলো এবং অভিবাসন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ ও নতুন সুযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই। নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আপনার অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন এবং এতে আপনার জানার আগ্রহ আরও বাড়বে!

국제 노동시장과 이주 문제 관련 이미지 1

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঢেউ: কর্মজীবনের নতুন দিগন্ত

প্রযুক্তির আগ্রাসন নাকি নতুন সম্ভাবনা?

প্রিয় বন্ধুরা, আজকাল কর্মসংস্থান নিয়ে কথা উঠলেই প্রথমে যে বিষয়টা আমাদের ভাবায়, তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। আমি নিজে যখন এই পরিবর্তনগুলো দেখি, তখন অবাক হয়ে ভাবি, প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের জীবনের এত গভীরে প্রবেশ করছে!

আগে ভাবতাম, এটা হয়তো শুধু বড় বড় ল্যাবরেটরির ব্যাপার, কিন্তু এখন দেখি আমাদের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে পেশাদার জীবনের প্রতিটি ধাপে এর প্রভাব স্পষ্ট। এটা একদিকে যেমন আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দিচ্ছে, অন্যদিকে অনেকের মনেই চাকরি হারানোর ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার কৌশলটা শিখে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন, গত কয়েক বছরে ডেটা সায়েন্স বা মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা যেভাবে বেড়েছে, তা অভাবনীয়। এসব নতুন ক্ষেত্রের সুযোগগুলো আসলে এআই-এরই অবদান।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে চাকরির বাজারের পরিবর্তন

ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (IMF) এর একটি রিপোর্টে দেখলাম, সারা বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরিই নাকি এআই দ্বারা প্রভাবিত হতে যাচ্ছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতাও বলে, কাস্টমার সার্ভিস বা টেলিমার্কেটিংয়ের মতো অনেক কাজ এখন এআই আরও দক্ষতার সাথে করতে পারছে, ফলে এই ক্ষেত্রগুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমছে। তবে প্রোগ্রামারদের জন্য কিন্তু মিশ্র ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে!

স্যাম অল্টম্যানের মতো প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, এআই প্রোগ্রামারদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে না, বরং তাদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে, যাতে তারা আরও উন্নত মানের সফটওয়্যার তৈরি করতে পারেন। আমার মনে হয়, এমন দ্রুত পরিবর্তনের যুগে আমাদের সবাইকে নতুন করে ভাবতে হবে, কীভাবে আমরা নিজেদের দক্ষতাকে আরও আধুনিক করে তুলব। কারণ, এটাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।

বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক চাকরির বাজার: কোন দক্ষতা এখন সবচেয়ে জরুরি?

ভবিষ্যতের কাজের চাহিদা বুঝতে পারা

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ চাকরির ধরন বদলে যাবে। এর মানে হলো, প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে, তবে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ চাকরি হারিয়েও যাবে। এই পরিসংখ্যানটা দেখে আমি একটু চমকেই গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, যারা ভাবছেন বিদেশে গিয়ে ভালো একটা চাকরি করবেন, তাদের জন্য এই তথ্যটা খুবই জরুরি। কোন কাজগুলো এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। মানবিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত পেশাগুলো, যেমন নার্সিং, শিক্ষকতা বা চিকিৎসা, এআই-এর প্রভাবে সহজে হারিয়ে যাবে না। কারণ, মানুষের আবেগ আর সহানুভূতির জায়গাটা যন্ত্র কখনও পূরণ করতে পারে না।

চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা ও কোর্সসমূহ

আমি দেখেছি, যারা আগে থেকে ভবিষ্যতের চাহিদা বুঝে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন, তারাই দ্রুত সফল হচ্ছেন। ২০২৩ সালে একটি জরিপে দেখা গেছে, ৭৫০ জন ব্যবসায়িক নেতার মধ্যে ৯৬ শতাংশই নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এআই দক্ষতা সম্পন্ন প্রার্থীদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন, এআই-এর সাথে কাজ করার ক্ষমতা কতটা জরুরি। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট কোর্স এখন অনেক বেশি চাহিদাসম্পন্ন। নিচে আমি একটি টেবিল দিয়েছি, যেখানে ২০২৫ সালের কিছু চাহিদাসম্পন্ন কোর্স এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা আমার গবেষণা থেকে উঠে এসেছে।

চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেত্র কিছু উদাহরণ জনপ্রিয় গন্তব্য
কম্পিউটার সায়েন্স ও তথ্যপ্রযুক্তি সফটওয়্যার ডেভেলপার, এআই বিশেষজ্ঞ, সাইবার নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি
মেডিসিন ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান চিকিৎসক, নার্স, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা
ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা এমবিএ, ডিজিটাল মার্কেটিং, উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর
ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্র, বৈদ্যুতিক, সিভিল প্রকৌশলী জার্মানি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র
পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিজ্ঞানী সুইডেন, কানাডা, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস
Advertisement

আমার মনে হয়, এই ক্ষেত্রগুলোতে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আপনার চাহিদা বাড়বেই।

বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক চাকরির সুবর্ণ সুযোগ

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ: কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজতে হলে প্রথমে সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর ভরসা রাখা উচিত। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এর মতো সংস্থাগুলো বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দারুণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি, BOESL ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এমনকি জাপানেও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণ, আতিথেয়তা, গৃহস্থালি কাজের চাহিদা যেমন আছে, তেমনই মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে উৎপাদন ও পরিষেবা খাতেও সুযোগ বাড়ছে। জাপান তাদের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের (TITP) মাধ্যমে উৎপাদন, কৃষি ও পরিচর্যা খাতে তরুণদের জন্য পথ খুলে দিচ্ছে।

পশ্চিমা বিশ্বে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা

তবে শুধু অদক্ষ শ্রমিক নয়, দক্ষ পেশাজীবীদের জন্যও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচুর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে আইটি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রকৌশল খাতে কাজের দারুণ সুযোগ রয়েছে। জাতিসংঘ এবং এর অনুমোদিত সংস্থাগুলোতেও প্রকিউরমেন্ট, অর্থনীতি, অপারেশন ইত্যাদি পদে দক্ষ জনবলের চাহিদা থাকে। জার্মানির জব সিকার ভিসা, পর্তুগালের প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার ভিসা, বা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোগ্রামের মতো পথগুলো আমাদের দেশের শিক্ষিত তরুণদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা নিয়ে আসছে। আমার পরামর্শ হলো, এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হলে সঠিক প্রস্তুতি নেওয়াটা খুব জরুরি। যেমন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দক্ষতার সনদপত্র ও চিকিৎসা ছাড়পত্র প্রস্তুত রাখা।

অভিবাসন পথে কাঁটা: ভিসা ও প্রবেশের জটিলতা

Advertisement

বাড়ছে ভিসা জটিলতা: কেন এমন হচ্ছে?

সত্যি বলতে কি, আমি সম্প্রতি লক্ষ্য করছি, বিদেশে যাওয়াটা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পাঠক আমার কাছে জানতে চান, কেন বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়া এত জটিল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত পড়ে আমি যা বুঝলাম, তার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ, যেমন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত—এরা ভিসার শর্ত অনেক কঠোর করে দিয়েছে। এমনকি ইউরোপের দেশগুলোতেও বাংলাদেশি ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আমার মনে হয়, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ভিসার অপব্যবহার, অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা এবং জালিয়াতির ঘটনা, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।

যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের পরিবর্তিত অভিবাসন নীতি

ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্য তো অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে কড়া নিয়মকানুন নিয়ে আসছে। তারা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করেছে, এমনকি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করার নিয়ম জারি করেছে। এসব খবর পড়ে আমি রীতিমতো চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। একই সাথে সৌদি আরবেও বিদেশি কর্মীদের জন্য বেতন-প্রণোদনা কমানো হচ্ছে, কারণ তারা ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে দেশীয় কর্মীদের প্রাধান্য দিচ্ছে। আমার মনে হয়, এই পরিবর্তনগুলো আমাদের দেশের যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তাই সঠিক তথ্য জেনে এবং যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব ও সঠিক পথ

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মেলানো

আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে সবচেয়ে জরুরি হলো দক্ষতা। যখন দেখি আমাদের দেশের অনেক তরুণ বিদেশে গিয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না, তখন মনে হয়, কোথাও একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আসলে বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর তার সাথে তাল মেলাতে হলে আমাদেরও নিজেদের দক্ষতা আধুনিক করতে হবে। ওয়ার্ল্ড স্কিলস ইন্টারন্যাশনাল (WSI)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো দক্ষ কর্মী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনও এই সংগঠনের সদস্য নয়, যা আমাদের শ্রমবাজারকে কিছুটা পিছিয়ে রাখছে। তবে আশার কথা হলো, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা

আমি দেখেছি, যারা সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা সব সময়ই ভালো সুযোগ পেয়েছেন। তাই আমার পরামর্শ হলো, এখন থেকেই ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হন। শুধু একাডেমিক ডিগ্রি নয়, হাতে-কলমে শেখা দক্ষতাগুলোর কদর অনেক বেশি। ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা, বা স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে পারলে বিদেশে আপনার কদর বাড়বে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জেলা পর্যায়ে ওয়ার্কশপ, সেমিনার আয়োজন এবং টিভি কমার্শিয়াল প্রচারের মাধ্যমে দক্ষতা প্রশিক্ষণকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে। আমার মতে, সরকারের পাশাপাশি আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও খুব জরুরি। কারণ, নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়তে হবে।

ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ

Advertisement

সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনার গুরুত্ব

আমি আমার দীর্ঘ ব্লগিং জীবনে একটা জিনিস খুব ভালোভাবেই বুঝেছি, তা হলো সঠিক তথ্যের গুরুত্ব। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার এবং অভিবাসন এত বিশাল একটি বিষয় যে, এখানে ভুল তথ্যের কারণে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমার নিজের দেখা অনেক মানুষ আছেন, যারা ভুল পথে হেঁটে অনেক টাকা খুইয়েছেন বা হতাশ হয়ে ফিরে এসেছেন। তাই আমার প্রথম পরামর্শ হলো, আপনি যে দেশ বা যে সেক্টরে যেতে চান, সে সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করুন। শুধু শোনা কথার ওপর নির্ভর না করে, নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট, সরকারি সংস্থা বা অভিজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি জানুন। ভিসা প্রক্রিয়া, কাজের ধরণ, জীবনযাত্রার খরচ, এমনকি সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্পর্কেও ভালোভাবে জেনে রাখা উচিত। একটা সুন্দর পরিকল্পনা ছাড়া কোনো বড় কাজে হাত দিলে সফল হওয়া কঠিন।

নিজেকে প্রস্তুত করার সেরা উপায়

বন্ধুরা, নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য আমি সবসময় কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিতে বলি। প্রথমত, ভাষা দক্ষতা। ইংরেজি ছাড়াও যে দেশে যেতে চান, সেখানকার স্থানীয় ভাষা কিছুটা জেনে রাখা আপনার জন্য অনেক সুবিধা বয়ে আনবে। দ্বিতীয়ত, দক্ষতা উন্নয়ন। প্রযুক্তির এই যুগে নতুন নতুন সফটওয়্যার বা টুলস শেখাটা খুবই জরুরি। যেমন, মাইক্রোসফট অফিসের সাধারণ কাজ থেকে শুরু করে অ্যাডভান্সড ডেটা অ্যানালাইসিস টুলস, সবকিছুরই চাহিদা বাড়ছে। তৃতীয়ত, মানসিক প্রস্তুতি। বিদেশে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটা মোটেও সহজ নয়। অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে, হতাশা আসবে, কিন্তু সেসব মোকাবিলা করার জন্য আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। আমার মনে আছে, আমার একজন পরিচিত ব্যক্তি জার্মানিতে গিয়ে প্রথম দিকে অনেক স্ট্রাগল করেছেন, কিন্তু হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হয়েছিলেন। আর সবশেষে বলব, নেটওয়ার্কিং। যাদের বিদেশে অভিজ্ঞতা আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, তাদের পরামর্শ নিন। এটা আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঢেউ: কর্মজীবনের নতুন দিগন্ত

প্রযুক্তির আগ্রাসন নাকি নতুন সম্ভাবনা?

প্রিয় বন্ধুরা, আজকাল কর্মসংস্থান নিয়ে কথা উঠলেই প্রথমে যে বিষয়টা আমাদের ভাবায়, তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। আমি নিজে যখন এই পরিবর্তনগুলো দেখি, তখন অবাক হয়ে ভাবি, প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের জীবনের এত গভীরে প্রবেশ করছে!

আগে ভাবতাম, এটা হয়তো শুধু বড় বড় ল্যাবরেটরির ব্যাপার, কিন্তু এখন দেখি আমাদের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে পেশাদার জীবনের প্রতিটি ধাপে এর প্রভাব স্পষ্ট। এটা একদিকে যেমন আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দিচ্ছে, অন্যদিকে অনেকের মনেই চাকরি হারানোর ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার কৌশলটা শিখে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন, গত কয়েক বছরে ডেটা সায়েন্স বা মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা যেভাবে বেড়েছে, তা অভাবনীয়। এসব নতুন ক্ষেত্রের সুযোগগুলো আসলে এআই-এরই অবদান।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে চাকরির বাজারের পরিবর্তন

ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (IMF) এর একটি রিপোর্টে দেখলাম, সারা বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরিই নাকি এআই দ্বারা প্রভাবিত হতে যাচ্ছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতাও বলে, কাস্টমার সার্ভিস বা টেলিমার্কেটিংয়ের মতো অনেক কাজ এখন এআই আরও দক্ষতার সাথে করতে পারছে, ফলে এই ক্ষেত্রগুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমছে। তবে প্রোগ্রামারদের জন্য কিন্তু মিশ্র ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে!

স্যাম অল্টম্যানের মতো প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, এআই প্রোগ্রামারদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে না, বরং তাদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে, যাতে তারা আরও উন্নত মানের সফটওয়্যার তৈরি করতে পারেন। আমার মনে হয়, এমন দ্রুত পরিবর্তনের যুগে আমাদের সবাইকে নতুন করে ভাবতে হবে, কীভাবে আমরা নিজেদের দক্ষতাকে আরও আধুনিক করে তুলব। কারণ, এটাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।

বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক চাকরির বাজার: কোন দক্ষতা এখন সবচেয়ে জরুরি?

ভবিষ্যতের কাজের চাহিদা বুঝতে পারা

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ চাকরির ধরন বদলে যাবে। এর মানে হলো, প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে, তবে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ চাকরি হারিয়েও যাবে। এই পরিসংখ্যানটা দেখে আমি একটু চমকেই গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, যারা ভাবছেন বিদেশে গিয়ে ভালো একটা চাকরি করবেন, তাদের জন্য এই তথ্যটা খুবই জরুরি। কোন কাজগুলো এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। মানবিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত পেশাগুলো, যেমন নার্সিং, শিক্ষকতা বা চিকিৎসা, এআই-এর প্রভাবে সহজে হারিয়ে যাবে না। কারণ, মানুষের আবেগ আর সহানুভূতির জায়গাটা যন্ত্র কখনও পূরণ করতে পারে না।

চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা ও কোর্সসমূহ

국제 노동시장과 이주 문제 관련 이미지 2
আমি দেখেছি, যারা আগে থেকে ভবিষ্যতের চাহিদা বুঝে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন, তারাই দ্রুত সফল হচ্ছেন। ২০২৩ সালে একটি জরিপে দেখা গেছে, ৭৫০ জন ব্যবসায়িক নেতার মধ্যে ৯৬ শতাংশই নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এআই দক্ষতা সম্পন্ন প্রার্থীদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন, এআই-এর সাথে কাজ করার ক্ষমতা কতটা জরুরি। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট কোর্স এখন অনেক বেশি চাহিদাসম্পন্ন। নিচে আমি একটি টেবিল দিয়েছি, যেখানে ২০২৫ সালের কিছু চাহিদাসম্পন্ন কোর্স এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা আমার গবেষণা থেকে উঠে এসেছে।

চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেত্র কিছু উদাহরণ জনপ্রিয় গন্তব্য
কম্পিউটার সায়েন্স ও তথ্যপ্রযুক্তি সফটওয়্যার ডেভেলপার, এআই বিশেষজ্ঞ, সাইবার নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি
মেডিসিন ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান চিকিৎসক, নার্স, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা
ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা এমবিএ, ডিজিটাল মার্কেটিং, উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর
ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্র, বৈদ্যুতিক, সিভিল প্রকৌশলী জার্মানি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র
পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিজ্ঞানী সুইডেন, কানাডা, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস
Advertisement

আমার মনে হয়, এই ক্ষেত্রগুলোতে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আপনার চাহিদা বাড়বেই।

বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক চাকরির সুবর্ণ সুযোগ

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ: কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজতে হলে প্রথমে সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর ভরসা রাখা উচিত। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এর মতো সংস্থাগুলো বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দারুণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি, BOESL ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এমনকি জাপানেও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণ, আতিথেয়তা, গৃহস্থালি কাজের চাহিদা যেমন আছে, তেমনই মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে উৎপাদন ও পরিষেবা খাতেও সুযোগ বাড়ছে। জাপান তাদের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের (TITP) মাধ্যমে উৎপাদন, কৃষি ও পরিচর্যা খাতে তরুণদের জন্য পথ খুলে দিচ্ছে।

পশ্চিমা বিশ্বে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা

তবে শুধু অদক্ষ শ্রমিক নয়, দক্ষ পেশাজীবীদের জন্যও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচুর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে আইটি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রকৌশল খাতে কাজের দারুণ সুযোগ রয়েছে। জাতিসংঘ এবং এর অনুমোদিত সংস্থাগুলোতেও প্রকিউরমেন্ট, অর্থনীতি, অপারেশন ইত্যাদি পদে দক্ষ জনবলের চাহিদা থাকে। জার্মানির জব সিকার ভিসা, পর্তুগালের প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার ভিসা, বা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোগ্রামের মতো পথগুলো আমাদের দেশের শিক্ষিত তরুণদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা নিয়ে আসছে। আমার পরামর্শ হলো, এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হলে সঠিক প্রস্তুতি নেওয়াটা খুব জরুরি। যেমন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দক্ষতার সনদপত্র ও চিকিৎসা ছাড়পত্র প্রস্তুত রাখা।

অভিবাসন পথে কাঁটা: ভিসা ও প্রবেশের জটিলতা

Advertisement

বাড়ছে ভিসা জটিলতা: কেন এমন হচ্ছে?

সত্যি বলতে কি, আমি সম্প্রতি লক্ষ্য করছি, বিদেশে যাওয়াটা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পাঠক আমার কাছে জানতে চান, কেন বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়া এত জটিল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত পড়ে আমি যা বুঝলাম, তার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ, যেমন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত—এরা ভিসার শর্ত অনেক কঠোর করে দিয়েছে। এমনকি ইউরোপের দেশগুলোতেও বাংলাদেশি ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আমার মনে হয়, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ভিসার অপব্যবহার, অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা এবং জালিয়াতির ঘটনা, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।

যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের পরিবর্তিত অভিবাসন নীতি

ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্য তো অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে কড়া নিয়মকানুন নিয়ে আসছে। তারা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করেছে, এমনকি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করার নিয়ম জারি করেছে। এসব খবর পড়ে আমি রীতিমতো চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। একই সাথে সৌদি আরবেও বিদেশি কর্মীদের জন্য বেতন-প্রণোদনা কমানো হচ্ছে, কারণ তারা ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে দেশীয় কর্মীদের প্রাধান্য দিচ্ছে। আমার মনে হয়, এই পরিবর্তনগুলো আমাদের দেশের যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তাই সঠিক তথ্য জেনে এবং যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব ও সঠিক পথ

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মেলানো

আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে সবচেয়ে জরুরি হলো দক্ষতা। যখন দেখি আমাদের দেশের অনেক তরুণ বিদেশে গিয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না, তখন মনে হয়, কোথাও একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আসলে বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর তার সাথে তাল মেলাতে হলে আমাদেরও নিজেদের দক্ষতা আধুনিক করতে হবে। ওয়ার্ল্ড স্কিলস ইন্টারন্যাশনাল (WSI)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো দক্ষ কর্মী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনও এই সংগঠনের সদস্য নয়, যা আমাদের শ্রমবাজারকে কিছুটা পিছিয়ে রাখছে। তবে আশার কথা হলো, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা

আমি দেখেছি, যারা সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা সব সময়ই ভালো সুযোগ পেয়েছেন। তাই আমার পরামর্শ হলো, এখন থেকেই ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হন। শুধু একাডেমিক ডিগ্রি নয়, হাতে-কলমে শেখা দক্ষতাগুলোর কদর অনেক বেশি। ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা, বা স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে পারলে বিদেশে আপনার কদর বাড়বে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জেলা পর্যায়ে ওয়ার্কশপ, সেমিনার আয়োজন এবং টিভি কমার্শিয়াল প্রচারের মাধ্যমে দক্ষতা প্রশিক্ষণকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে। আমার মতে, সরকারের পাশাপাশি আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগও খুব জরুরি। কারণ, নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়তে হবে।

ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ

Advertisement

সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনার গুরুত্ব

আমি আমার দীর্ঘ ব্লগিং জীবনে একটা জিনিস খুব ভালোভাবেই বুঝেছি, তা হলো সঠিক তথ্যের গুরুত্ব। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার এবং অভিবাসন এত বিশাল একটি বিষয় যে, এখানে ভুল তথ্যের কারণে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমার নিজের দেখা অনেক মানুষ আছেন, যারা ভুল পথে হেঁটে অনেক টাকা খুইয়েছেন বা হতাশ হয়ে ফিরে এসেছেন। তাই আমার প্রথম পরামর্শ হলো, আপনি যে দেশ বা যে সেক্টরে যেতে চান, সে সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করুন। শুধু শোনা কথার ওপর নির্ভর না করে, নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট, সরকারি সংস্থা বা অভিজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি জানুন। ভিসা প্রক্রিয়া, কাজের ধরণ, জীবনযাত্রার খরচ, এমনকি সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্পর্কেও ভালোভাবে জেনে রাখা উচিত। একটা সুন্দর পরিকল্পনা ছাড়া কোনো বড় কাজে হাত দিলে সফল হওয়া কঠিন।

নিজেকে প্রস্তুত করার সেরা উপায়

বন্ধুরা, নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য আমি সবসময় কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিতে বলি। প্রথমত, ভাষা দক্ষতা। ইংরেজি ছাড়াও যে দেশে যেতে চান, সেখানকার স্থানীয় ভাষা কিছুটা জেনে রাখা আপনার জন্য অনেক সুবিধা বয়ে আনবে। দ্বিতীয়ত, দক্ষতা উন্নয়ন। প্রযুক্তির এই যুগে নতুন নতুন সফটওয়্যার বা টুলস শেখাটা খুবই জরুরি। যেমন, মাইক্রোসফট অফিসের সাধারণ কাজ থেকে শুরু করে অ্যাডভান্সড ডেটা অ্যানালাইসিস টুলস, সবকিছুরই চাহিদা বাড়ছে। তৃতীয়ত, মানসিক প্রস্তুতি। বিদেশে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটা মোটেও সহজ নয়। অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে, হতাশা আসবে, কিন্তু সেসব মোকাবিলা করার জন্য আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। আমার মনে আছে, আমার একজন পরিচিত ব্যক্তি জার্মানিতে গিয়ে প্রথম দিকে অনেক স্ট্রাগল করেছেন, কিন্তু হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হয়েছিলেন। আর সবশেষে বলব, নেটওয়ার্কিং। যাদের বিদেশে অভিজ্ঞতা আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, তাদের পরামর্শ নিন। এটা আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

লেখাটি শেষ করছি

প্রিয় পাঠকেরা, আজ আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে পরিবর্তিত কর্মবাজার এবং আন্তর্জাতিক সুযোগগুলো নিয়ে অনেক কথা বললাম। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই পরিবর্তনগুলো ভয়ের নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। সঠিক তথ্য, পরিকল্পনা এবং নিজেকে সময়োপযোগী করে তুলতে পারলে আপনার স্বপ্ন পূরণ হওয়া মোটেই কঠিন নয়। তাই আসুন, সবাই মিলে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হই এবং এই নতুন বিশ্বকে আলিঙ্গন করি। মনে রাখবেন, জ্ঞানই শক্তি, আর সঠিক প্রস্তুতিই সাফল্যের চাবিকাঠি।

জেনে রাখুন কিছু দরকারী তথ্য

১. আন্তর্জাতিক চাকরির জন্য BOESL এবং BMET-এর মতো সরকারি সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখুন।

২. AI এর প্রভাব থেকে মুক্ত পেশাগুলো (যেমন নার্সিং, শিক্ষকতা) অথবা AI এর সাথে যুক্ত দক্ষতা (ডেটা সায়েন্স) অর্জনে মন দিন।

৩. বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কম্পিউটার সায়েন্স, মেডিসিন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রগুলো বেছে নিতে পারেন।

৪. ভিসা জটিলতা এড়াতে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং অবৈধ অভিবাসন থেকে দূরে থাকুন। সঠিক পথে আবেদন করুন।

৫. শুধুমাত্র একাডেমিক ডিগ্রি নয়, হাতে-কলমে শেখা দক্ষতার উপর জোর দিন এবং ভাষা দক্ষতা বাড়ান।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশ্বিক কর্মসংস্থানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে, যেখানে প্রায় ৪০% চাকরি এআই দ্বারা পরিবর্তিত হতে পারে। ভবিষ্যতের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন দক্ষতা অর্জন করা জরুরি, বিশেষ করে ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং এবং সাইবার নিরাপত্তা। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে অনেক চাকরির ধরন বদলে যাবে, যা নতুন সুযোগও তৈরি করবে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য BOESL এবং BMET-এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং জাপানে কাজের সুযোগ রয়েছে, পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বে আইটি ও স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে। তবে ভিসা জটিলতা এবং অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের কারণে সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতির গুরুত্ব অপরিসীম। নিজের দক্ষতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগগুলোকে কাজে লাগানো উচিত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রভাব কেমন, আর এই নতুন পরিস্থিতিতে সফল হওয়ার জন্য আমাদের কোন দক্ষতাগুলো অর্জন করতে হবে?

উ: সত্যি বলতে কি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI যে গতিতে আমাদের দৈনন্দিন জীবন আর কাজের জগৎকে বদলে দিচ্ছে, তা দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই! আমার মনে আছে, কিছুদিন আগেও আমরা ভাবতাম AI হয়তো শুধু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো কেড়ে নেবে। কিন্তু এখন দেখছি, লেখালেখি, প্রোগ্রামিং এমনকি গ্রাফিক ডিজাইনের মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলোতেও AI তার থাবা বসাচ্ছে। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর একটা গবেষণা বলছে, চ্যাটজিপিটি আসার পর লেখালেখির চাকরি ৩০ শতাংশ আর প্রোগ্রামিংয়ের চাকরি ২০ শতাংশ কমে গেছে, এমনকি ডিজাইনারের চাকরির বিজ্ঞপ্তিও কমেছে ১৭ শতাংশ। এটা একটা বড় পরিবর্তন, যা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে।তবে, এর মানে এই নয় যে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। আসলে, AI একদিকে যেমন কিছু কাজকে সরিয়ে দিচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে নতুন নতুন সুযোগও তৈরি করছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক প্রতিবেদন বলছে, আগামী পাঁচ বছরে অনেক পুরোনো চাকরি বিলুপ্ত হলেও, প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিকস, সাইবার সিকিউরিটি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সাপ্লাই চেইনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ কর্মীদের কদর বাড়বে। আমি নিজেও বিশ্বাস করি, যারা নিজেদেরকে নতুন প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে। এখন আর শুধু একটি ডিগ্রি দিয়ে সারাজীবন পার করে দেওয়ার সুযোগ নেই; ক্রমাগত শিখতে থাকা আর নতুন দক্ষতা অর্জন করাটাই এখন সফলতার চাবিকাঠি। বিশেষ করে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, অর্থ, ব্যবস্থাপনা এবং বিপণনের মতো খাতগুলোতে দক্ষ বিদেশী কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। তাই, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আপনি যদি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের জায়গা করে নিতে চান, তাহলে প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে ঝালিয়ে নিন, ডেটা অ্যানালিটিকস শিখুন, সাইবার সুরক্ষার বিষয়গুলো জানুন। এগুলোই এখনকার সবচেয়ে মূল্যবান দক্ষতা।

প্র: বর্তমানে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে অভিবাসীদের জন্য কী কী সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ আছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে?

উ: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সব সময়ই আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ধরন অনেক বদলে গেছে, যা আমি খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করছি। একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে চ্যালেঞ্জগুলোও কম নয়।সুযোগের কথা বলতে গেলে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব, এখনও আমাদের কর্মীদের জন্য একটি বড় গন্তব্য। ২০২৩ সালে প্রায় ৫ লাখ কর্মী সৌদি আরবে গেছেন এবং আশা করা হচ্ছে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সেখানে আরও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান এবং পশ্চিমা দেশগুলোতেও (যেমন যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, নির্মাণ ও পরিষেবা খাতে সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে ভালো খবর হলো, সরকার ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (OEP)’ চালু করেছে, যা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ আর সহজ করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়। এটি দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং কর্মীদের খরচ কমাতে সহায়ক হবে।কিন্তু চ্যালেঞ্জগুলোও আমাদের উপেক্ষা করলে চলবে না। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাব, রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম এবং ভিসা জটিলতার কারণে কর্মীরা ভোগান্তির শিকার হন। দুঃখজনকভাবে, মালয়েশিয়া ও ওমানের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়, যা কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এমনকি সৌদি আরবও এখন বিদেশি কর্মীদের জন্য উচ্চ বেতন-প্রণোদনা কমানোর দিকে এগোচ্ছে, কারণ তারা ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে নিজস্ব নাগরিকদের কর্মসংস্থানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক সময় প্রবাসীরা হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হন, আর দূতাবাসগুলোও সবসময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না, যা খুবই হতাশাজনক। আবার, বৈশ্বিক মন্দার কারণেও অনেক দেশে চাকরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, গত এক বছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। তাই, বিদেশে যাওয়ার আগে এসব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে প্রস্তুতি নেওয়াটা খুবই জরুরি।

প্র: এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদেশে একটি সফল কর্মজীবনের জন্য একজন ব্যক্তিকে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা উচিত?

উ: আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, পরিবর্তিত এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদেশে সফল হতে হলে নিজেকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা খুবই জরুরি। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে হবে।প্রথমত, দক্ষতা উন্নয়ন এর কোনো বিকল্প নেই। এখন আর সাধারণ ডিগ্রিতে কাজ হয় না। বৈদেশিক শ্রমবাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা টেকনিক্যালি দক্ষ মানুষের। তাই, আপনার আগ্রহের ক্ষেত্র অনুযায়ী কারিগরি বা প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলো ঝালিয়ে নিন। যেমন, ডেটা অ্যানালিটিকস, সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, এমনকি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি – এই ধরনের দক্ষতাগুলো আপনাকে এগিয়ে রাখবে। শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, যোগাযোগ দক্ষতা (যোগাযোগ দক্ষতা আপনার পেশাগত জীবনকে সহজ করতে পারে।), সাংস্কৃতিক জ্ঞান এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে ভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সফট স্কিলগুলো খুবই দরকারি।দ্বিতীয়ত, ভাষা দক্ষতা। আমি মনে করি, বিদেশে সফল হওয়ার জন্য এটি একটি মৌলিক বিষয়। যে দেশে যেতে চাইছেন, সেখানকার স্থানীয় ভাষা বা ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা আপনাকে অনেক এগিয়ে দেবে। শুধু কথা বলা নয়, লেখায় ও বোঝায় দক্ষতা থাকাটাও জরুরি। এর ফলে আপনি সহজেই সহকর্মীদের সাথে মিশতে পারবেন এবং কাজের পরিবেশেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।তৃতীয়ত, সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি। বিদেশে কাজের ভিসার জন্য সঠিক কাগজপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, চাকরির অফার লেটার এবং ভিসা আবেদন ফি’র মতো বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে নিন। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এর মতো সরকারি সংস্থাগুলো যেসব তথ্য দেয়, সেগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখুন। আর, ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (OEP)’ এর মতো নতুন ডিজিটাল গেটওয়েগুলোর মাধ্যমে ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন। দালালের উপর অন্ধভাবে ভরসা না করে নিজে যাচাই করে নিন।সবচেয়ে বড় কথা, আমার বিশ্বাস, ধৈর্য, শেখার আগ্রহ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতাই আপনাকে বিদেশে সফল করে তুলবে। সবসময় নিজেকে আপডেট রাখুন, কারণ শ্রমবাজারের চাহিদা দ্রুত বদলায়।

📚 তথ্যসূত্র